advertisement

মাতারবাড়ীতে ৭ কোটি টাকার ড্রেন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, দেখেও নীরব স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা...

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই ২২, ২০২৬, ০৮:৪৮

মাতারবাড়ীতে ৭ কোটি টাকার ড্রেন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, দেখেও নীরব স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা...
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিনিধি, মহেশখালী:

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৯০০ মিটার ড্রেন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। 


featured banner

স্থানীয়দের দাবি, সিএনজি স্টেশন থেকে পুরান বাজারের পশ্চিম পাশ পর্যন্ত চলমান ড্রেন নির্মাণকাজে প্রকল্পের নকশা ও চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে সিএসআই (CSI) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী ৯ ইঞ্চি পুরু ঢালাই (ডালা) ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে ৭ ইঞ্চি পুরু ঢালাই দিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ড্রেনের স্থায়িত্ব ও নির্মাণমান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এছাড়া নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঢালাইয়ের কাজে প্রয়োজনীয় মানসম্মত বালির পরিবর্তে সড়ক থেকে তুলে আনা বালি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে নির্মাণকাজের গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাদের স্থাপনা বা জায়গা রক্ষা করে নকশা পরিবর্তন করে ইচ্ছেমতো ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে কোথাও ড্রেন সরু, কোথাও বাঁকানো, আবার কোথাও পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে ভবিষ্যতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


অন্যদিকে, দীর্ঘ সড়কজুড়ে একসঙ্গে খননকাজ শুরু করলেও পর্যাপ্ত শ্রমিক নিয়োগ না দেওয়ায় কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে কাজ পরিচালনা করায় দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশ খোঁড়াখুঁড়ি অবস্থায় পড়ে আছে। এতে পথচারী, যানবাহন চালক, ব্যবসায়ী এবং আশপাশের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ও কাদার কারণে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তর এলজিইডির (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করলে এ ধরনের অনিয়ম করার সুযোগ পেত না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের প্রশ্ন, "এলজিইডি কি এসব অনিয়ম দেখছে না, নাকি দেখেও নীরব রয়েছে?"


এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকল্পের নির্মাণমান যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


তবে অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএসআই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

google-news-feed আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সম্পর্কিত খবর
কক্সবাজার পৌরসভার পরিষ্কার কাজের নামে ক্যাম্প থেকে শহরে রোহিঙ্গা শ্রমিক, নেপথ্যে সরোয়ার

কক্সবাজার পৌরসভার পরিষ্কার কাজের নামে ক্যাম্প থেকে শহরে রোহিঙ্গা শ্রমিক, নেপথ্যে সরোয়ার

কাগজের রেকর্ডে সীমাবদ্ধ নয়, সরেজমিনে বাঁকখালী নদীর গতিপথ ও জোয়ারের সীমা মেপে সীমানা নির্ধারণ

কাগজের রেকর্ডে সীমাবদ্ধ নয়, সরেজমিনে বাঁকখালী নদীর গতিপথ ও জোয়ারের সীমা মেপে সীমানা নির্ধারণ

অ্যাড: মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এর মৃত্যুতে কক্সবাজার ৭১ পরিবারের শোক প্রকাশ

অ্যাড: মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এর মৃত্যুতে কক্সবাজার ৭১ পরিবারের শোক প্রকাশ

চকরিয়া সরকারি কলেজের সামনে থেকে র‍্যাবের দেশীয় বন্দুক উদ্ধার

চকরিয়া সরকারি কলেজের সামনে থেকে র‍্যাবের দেশীয় বন্দুক উদ্ধার

বাঁকখালী নদী রক্ষায় হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়

বাঁকখালী নদী রক্ষায় হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়

উচ্ছেদ অভিযানের আগেই জেলা কারাগার সংলগ্ন মাটিয়াতলী এলাকায় রণক্ষেত্র, হামলা-সংঘর্ষে আহত ৪

উচ্ছেদ অভিযানের আগেই জেলা কারাগার সংলগ্ন মাটিয়াতলী এলাকায় রণক্ষেত্র, হামলা-সংঘর্ষে আহত ৪

সর্বশেষ সংবাদ